
দেশজুড়ে আজ (বুধবার) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ৯ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে অংশ নেবেন। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৪০টি কেন্দ্র। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সিসিটিভি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের কার্যক্রম অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা উপলক্ষে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি কিংবা যেকোনো ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতি, ক্রীড়া, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং কর্মদক্ষতার সমান গুরুত্ব থাকবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধাপে ধাপে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি কোথাও প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রয়োজন হলে সারা দেশের ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পরীক্ষা চলাকালে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের গুজবে কান না দিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটি।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন