
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হতে পারেন—এমন আলোচনা সামনে আসার পর দলটির পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন এবং তার শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়েও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের ভাষ্য, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে আপাতত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন তারা।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তুলনামূলক তরুণ কাউকেও মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কর্মীবান্ধব নেতাকে এ পদের জন্য বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ এবং তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন—এমন কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
মহাসচিব পদ নিয়ে নিজের সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়ে কাজ করছেন। দল তাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটিই তিনি পালন করবেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে রিজভী বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। দলীয় চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ অবশ্য বলেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দলকে রাজপথে সংগঠিত রাখতে রিজভীর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তিনি জানান, চেয়ারম্যান চাইলে দলের গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে অন্য কাউকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও একটি পদ শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ায় স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ফলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দুটি পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব পদে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে দলের জাতীয় কাউন্সিল সামনে থাকায় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলোতে এখনই কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার মন্ত্রিত্বও শূন্য হবে। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে, নাকি দলীয়ভাবে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো, মন্ত্রিসভা এবং সংসদীয় রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এসব পরিবর্তনের বেশিরভাগই এখন পর্যন্ত দলীয় পর্যায়ের আলোচনা ও সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন