
বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন’ অনুযায়ী এনটিআরসিএর মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। এ আইনের আওতায় প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার জন্য প্রতি পঞ্জিকা বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এনটিআরসিএ সর্বশেষ ২০২৩ সালে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। এ কারণে পরবর্তী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ আর সুপারিশ করবে না। প্রার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন।
এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন, পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভায় বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত এনটিআরসিএ শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ২০১৫ সাল থেকে সংস্থাটির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি এনটিআরসিএকে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখার মত দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে প্রত্যয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থী তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পেতে পারেন।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন কিংবা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম এক দশক সংস্থাটি মূলত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ দেওয়ার কাজ করত। পরে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ ব্যবস্থার ফলে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং ঘুষ ছাড়া নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ পর্যন্ত এনটিআরসিএ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকে এনটিআরসিএর ভূমিকা আবারও নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন