
ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে হঠাৎ বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সোমবার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে এই উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কাই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, যা সংঘাতের প্রভাবে একসময় ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনার ইতিবাচক সংকেতের কারণে তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে নেমেছিল। তবে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক সল কাভোনিক জানান, বাজার এখন আবার যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যক্রম শুরু করতে পারে। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান না আসা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা প্রতিবেদন
মন্তব্য করুন