
কুরবানির পশুর চামড়া দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অসংখ্য এতিমখানা, কওমি মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম আয়ের উৎস। কিন্তু চলতি ঈদে চামড়ার বাজারে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও বাস্তবে তার সামান্য অংশও পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
দেশের বিভিন্ন জেলায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই তা মাটিতে পুঁতে ফেলছেন কিংবা খাল-বিল ও পুকুরে ফেলে দিচ্ছেন। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দানের অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো এতিম শিশু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বরিশালে সরকার যেখানে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে, সেখানে অধিকাংশ চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। ছাগলের চামড়ার ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় কোনো মূল্যই পাওয়া যায়নি।
কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালকদের অভিযোগ, বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া সংগ্রহ এবং পরিবহন খরচ মেটানোর পর হাতে প্রায় কিছুই থাকছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করেছে।
খুলনা ও সাতক্ষীরার চামড়ার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও বহু ক্ষেত্রে ক্রেতাই পাওয়া যায়নি। ফলে কুরবানিদাতা ও ব্যবসায়ীরা চামড়া বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বছরের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়ের উৎস প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।
কুমিল্লার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শত শত চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হলেও ক্রেতার অভাবে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে আনার পরও বড় কোনো পাইকার বা ক্রেতার দেখা মিলছে না। ফলে পুঁজি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকদের একটি অংশ এবং মধ্যস্বত্বভোগী চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে রেখেছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।
অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের দাবি, তারা আগের বছরের তুলনায় বেশি দামে চামড়া কিনছেন। তবে মাঠপর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে প্রকৃত বিক্রেতারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তারা স্বীকার করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুরবানির চামড়ার অর্থ দেশের বহু এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসার বার্ষিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাজারে এমন ধস অব্যাহত থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের চামড়া শিল্পের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন