
দেশের ব্যাংকিং খাতে আদায় অযোগ্য বা মন্দ ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অনুমোদিত খেলাপি ঋণবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে মন্দ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে মন্দ ঋণ বেড়েছে আরও ২৮ হাজার কোটি টাকা।
এক বছর আগেও, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে মন্দ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে মন্দ ঋণ বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঋণের বড় অংশই বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম, জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, মন্দ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে ৫ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ প্রভিশন হিসেবে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে পারছে না।
এর ফলে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। পাশাপাশি এসব ঋণ থেকে কোনো আয় না থাকলেও ব্যবস্থাপনা ও আইনি কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ মন্দ ঋণ ব্যাংকগুলোর মুনাফা, মূলধন সক্ষমতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে পুরো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন