
গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শত শত গ্রাহক ভিড় করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ কয়েকজন গ্রাহক ব্যাংকের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
টাকা হারিয়ে অনেক গ্রাহককে উত্তেজিত ও দিশেহারা অবস্থায় দেখা যায়। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই কার্যালয়ের সামনে নোটিশ দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রথম দিনেই শতাধিক গ্রাহক প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
এদিকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ ও জিন্নাহ হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাংক পরিদর্শনে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, শ্রীনগর শাখাটিতে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। প্রথম দিনের জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা হারানোর অভিযোগ রয়েছে। ৫ লাখ, ১০ লাখ ও ২৫ লাখ টাকা জমা রাখা গ্রাহকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ জমা রাখা নারীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগের ধরন ও সংখ্যার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চক্র আলাদা সিল ব্যবহার করে এবং গ্রাহকের মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে অন্য নম্বর ব্যাংক হিসাবে যুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
এ ছাড়া ডাটা এন্ট্রির সময় অনেক গ্রাহকের মোবাইল নম্বরের একটি সংখ্যা কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে টাকা লেনদেনের পর তারা মোবাইলে এসএমএস পাননি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকের নামে চেকবই তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ জমা দিতে আসা আইভরি কোস্টপ্রবাসী বাহারুল আলমের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, তার স্বামী বিদেশ থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠিয়েছেন। সেই অর্থ থেকে তিনি ৮৪ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন। কিন্তু ওই টাকা পুরোপুরি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী পলি বেগমও ১০ লাখ টাকা হারানোর অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া মৌসুমী আক্তার ৩৩ লাখ, বকুল বেগম ১০ লাখ, ভানু আক্তার ৮ লাখ, শিখা আক্তার ১০ লাখ, তাহমিনা আক্তার ৪ লাখ, পারুল দাস ৬ লাখ ২৫ হাজার এবং লক্ষ্মী রাণী তালুকদার ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া বলেন, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগ ও জিন্নাহ হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। তাদের সন্ধান পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন