
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিচার্জ করেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সাতটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে মসজিদের সামনে অবস্থান নেন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একটি অংশ। সড়ক প্রশস্তকরণের আওতায় মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে তারা সেখানে অবস্থান করেন। সোমবার সকালে প্রশাসন নির্ধারিত অংশ অপসারণের কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশের দাবি, সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উজ্জয়িনী পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিষয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উজ্জয়িনী প্রশাসনের বক্তব্য, পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে না। সড়ক প্রশস্তকরণের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পড়া মসজিদের একটি অংশই অপসারণ করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, মসজিদ কমিটির সম্মতির ভিত্তিতে ওই অংশ সরানোর কাজ চলছে।
শাহী মসজিদের যে অংশটি সড়ক প্রকল্পের আওতায় পড়েছে, সেটি সরিয়ে ওই সড়ক ১৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীতে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
প্রশাসনের ভাষ্য, সিংহস্থ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। এ কারণে যানবাহন চলাচল, জননিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আগের আবেদনগুলো খারিজ করে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ পরিষ্কার করে। পরবর্তী সময়ে মসজিদ কমিটির সঙ্গে প্রশাসনের সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাগুলোর নিষ্পত্তিও হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একটি অংশ মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এর অংশ অপসারণের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি, মসজিদ অক্ষত রেখে রাস্তার অন্য পাশ থেকে জমি নিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
উজ্জয়িনীর ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কিছু বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক কনটেন্ট পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি করা কিছু কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কথাও এসেছে।
ঘটনার পর শাহী মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সড়ক উন্নয়ন ও ২০২৮ সালের সিংহস্থকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীতে একাধিক স্থাপনা অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শাহী মসজিদের অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় সেই উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন