
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যয় বাড়লেও বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। গত বছরের মতো এবারও কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জাহাজঘাটে পর্যটকদের জাহাজে ওঠানামার জন্য রয়েছে মাত্র একটি সিঁড়ি। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সিঁড়িটির অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পাশাপাশি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করতে হবে পর্যটকদের।
গত বছরও একই ঘাটে একটি সিঁড়ি দিয়ে পর্যটকদের জাহাজে ওঠানামা করতে হয়েছে। এতে অনেক সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এবারও অতিরিক্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা না করায় পুরোনো ভোগান্তির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু সিঁড়ির সংখ্যা নয়, বর্তমানে ব্যবহৃত সিঁড়িটির অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এটি জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কোনো পর্যটক দুর্ঘটনার শিকার হলে এর দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্নও উঠেছে। দুর্ঘটনার পর দায় এড়ানোর চেষ্টা না করে আগেই কেন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে না, তা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।
নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে মহেশখালী উপজেলার যাতায়াতের জন্যও সি-ট্রাক চলাচল করে। প্রতিদিন একই সময়ে সি-ট্রাকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের পাশাপাশি মহেশখালীগামী যাত্রীদের উপস্থিতিতে ঘাটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে পর্যটক, সাধারণ যাত্রী এবং দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসনের সদস্যদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিকল্প ঘাট ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নুনিয়ারছড়া ঘাটের বিদ্যমান সিঁড়ি দ্রুত সংস্কার করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন সিঁড়ি স্থাপন করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে সী ক্রুজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জাহাজ মালিকরা নিজেদের অর্থায়নে ২০২০ সালে সিঁড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে এর অবস্থা এখন বেশ খারাপ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আমরা বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
মহেশখালীর যাত্রীদের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘মহেশখালীর যাত্রীদের যাতায়াতের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত। তাই তাদের সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আবার ঘাটও একটি। এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’
গত বছরও একই ঘাটে দুই রুটের যাত্রীদের একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পরও এবার কার্যকর সমাধান না আসায় ঘাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, একই ঘাটে দুই গন্তব্যের নৌযানের যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিকল্প ব্যবস্থা কিংবা কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে বিকল্প ঘাট ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনগামী যাত্রীদের খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের জেটিঘাট ব্যবহার করে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত একটি সভা মন্ত্রণালয় ডেকেছে। আগামীকাল (৪ নভেম্বর) সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এলে আমরা মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটকদের খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের জেটিঘাট দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা গেলে মহেশখালীর যাত্রীদের নিয়ে আর ভাবতে হবে না। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর।’
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে পর্যটকদের ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে সেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়া হলে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন