
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক সাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেতন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন এবং বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রতিকার ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. সাদ্দাম হোসেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাচোল উপজেলার ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নাফিসা জাহান ইলা নার্সারি শ্রেণি থেকে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করে আসছিল। চলতি বছর সে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সেশন চার্জ, আইসিটি ফি ও নিয়মিত বেতন পরিশোধ করে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ জুলাই ২০২৬ অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরুর আগে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থী ইলাকে তার কক্ষে ডাকেন। এ সময় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি তুলে তার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীর বাবা।
সাদ্দাম হোসেনের দাবি, প্রধান শিক্ষক তার মেয়েকে বলেন, ‘বেতন পরিশোধ নাই, তবুও তুমি পরীক্ষা দিতে কেন এসেছ? স্কুলে এসে পরীক্ষা দিতে তোমার কোনো লজ্জা লাগে না?’
পরীক্ষার আগে এমন কথায় শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে দাবি করেন তার বাবা। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহেদা বেগম শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের সামনে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে নিয়ে কটু ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সাদ্দাম হোসেন।
ভুক্তভোগীর বাবা আরও বলেন, শিশুটির ওপর ধারাবাহিকভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হলেও বিষয়টি সমাধানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকলেও তার মেয়ের পড়াশোনার বিষয়ে বিদ্যালয় থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি।
পরে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ বিদ্যালয়ের সব পাওনা পরিশোধ করে মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্য স্থানান্তর সনদ (টিসি) নেন সাদ্দাম হোসেন। বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে বাধ্য হওয়ায় তার মেয়ের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া ছিল। বিষয়টি অভিভাবককে একাধিকবার জানানো হলেও বেতন পরিশোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বেতন বকেয়া থাকা শিক্ষার্থীসহ অন্য শিক্ষার্থীদেরও অফিসে ডেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ সময় তিনি ওই শিক্ষার্থীকে ‘বেতন পরিশোধ নাই, তবুও তুমি পরীক্ষা দিতে কেন এসেছ? স্কুলে এসে পরীক্ষা দিতে তোমার কোনো লজ্জা লাগে না?’—এ ধরনের কথা বলেছেন বলে স্বীকার করেন।
তবে তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক সাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সম্পর্কে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
অভিযোগের বিষয়ে বিয়াম ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন