
আন্দোলন, নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও গত বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। তবে পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তাদের দাবি, প্রশ্নপত্রের এসব ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
রসায়ন বিষয়ের একাধিক শিক্ষক প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, সৃজনশীল প্রশ্নের ১ নম্বর উদ্দীপকের (II) অংশে বিক্রিয়া থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোনটির ভর ২.৫ গ্রাম তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া ৫ নম্বর উদ্দীপকে ‘পাত্র-১’ উল্লেখ থাকলেও ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নে ‘A-পাত্র’ বলা হয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
৬ নম্বর উদ্দীপকের ‘গ’ প্রশ্নে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপন্ন করতে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপ উল্লেখ করা হয়নি। একই উদ্দীপকের ‘ঘ’ প্রশ্নে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী CO₂ গ্যাসের জন্য Z-এর মান ৪.০ পাওয়া যায়, যা বাস্তব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
এদিকে ৮ নম্বর উদ্দীপকের ‘ঘ’ প্রশ্নে ‘ভ্যান ডার ওয়ালস’ সমীকরণকে আদর্শ গ্যাসের সমীকরণের পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সংজ্ঞাগতভাবে সঠিক নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও দেশের কিছু পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বহুনির্বাচনী অংশেও ত্রুটি ধরা পড়েছে। যমুনা (ঘ) সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে প্রদত্ত চারটি বিকল্পের মধ্যে কোনো সঠিক উত্তর নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ নোমান বলেন, প্রশ্নের কিছু অংশ বুঝতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করতে হয়েছে। বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নে ভুল থাকতে পারে—এমন ধারণা না থাকায় তিনি সময় নষ্ট করেছেন। পরে অনুমাননির্ভর উত্তর দিতে বাধ্য হয়েছেন।
আরেক পরীক্ষার্থী মিশু খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, “আগেও প্রশ্নে ভুলের কারণে বোনাস নম্বর পেয়েছি, এবারও হয়তো পাব। এটাই এখন সায়েন্স।”
বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ও রসায়ন শিক্ষক আরিফ হক বলেন, প্রশ্নপত্রের ভুল শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি করে। পরীক্ষার সময় ভুলগুলো নিয়ে ভাবতে গিয়ে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। তিনি বলেন, এসব ভুল শুধু প্রশ্ন প্রণয়নকারীদের নয়, পাঠ্যবই ও সিলেবাসের অসঙ্গতিরও প্রতিফলন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মেধাবী শিক্ষার্থীরা, কারণ তারাই প্রশ্নের অসঙ্গতি দ্রুত বুঝতে পারে এবং উত্তর নিয়ে দ্বিধায় পড়ে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানূ এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন