
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার ভোরে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমেনি। বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত খারাপ আচরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি জাহাজ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের চেষ্টা করা হয় তবে তা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরবের তেল উৎপাদনও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার ফলে প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও দৈনিক প্রায় সাত লাখ ব্যারেল কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি অনেক দেশের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা প্রতিবেদন
মন্তব্য করুন