
বিদ্যুৎ আসছে, আবার চলে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীর গ্রাহকরা। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি। নগরীতে দিনে দুই থেকে চার ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিসপাড়া—সবখানেই চলছে লোডশেডিং নিয়ে আলোচনা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। পাশাপাশি কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শিল্পকারখানার মালিক-শ্রমিকদেরও পড়তে হচ্ছে নানা সংকটে।
লোডশেডিং নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাজশাহী জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ২৮ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় কখনো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ আসে ১১৩ মেগাওয়াট। দিনে-রাতে নগরীর গড় চাহিদা প্রায় ১৩৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে ১১১ মেগাওয়াট। ফলে গড়ে ঘাটতি থাকছে প্রায় ২৪ মেগাওয়াট।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বেশি। দিন-রাত মিলিয়ে দুই থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পুঠিয়ার ভড়ুয়ারপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর বলেন, দিনে বিদ্যুৎ না থাকলেও কোনোভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক কষ্ট হয়। সারাদিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে শান্তিতে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
লোডশেডিং নিয়ে জনমনে অসন্তোষের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকেন্দ্রগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর মানুষের দুর্ভোগ আরও কতদিন চলবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন