
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) যোগদানের কথা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া প্রার্থীদের অনেকেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে প্রস্তুত। তবে একই নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েও এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের অনেকে রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। কেউ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন, কেউ অনশন করছেন; আবার কেউ নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে অপেক্ষা করছেন।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, নির্বাচিতদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন করার কথা।
তবে সুপারিশ পাওয়ার পরও একটি অংশ নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ৮১৭ জনের তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের ঠিকানা পরিবর্তন, যোগাযোগে সমস্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজের ইচ্ছায় আবেদন করেননি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে পরবর্তী পর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা কমে আসে। এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের একটি অংশকে নিয়ে এখনো যাচাই-বাছাই চলছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর যারা নিয়োগপত্র পেয়েছেন, তাদের অনেকের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে তারা আজ নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তবে একই নিয়োগের আরেকটি চিত্র হতাশার।
কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন তাদেরই একজন। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে পারছেন না বলে জানান তিনি। কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, কী কারণে তার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেটি এখনো জানেন না।
ময়মনসিংহেও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ১১ জন প্রার্থী অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য নেই। এরপরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা বলে নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ময়মনসিংহ জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৫৯ জন চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ২২ জনের নিয়োগ এখনো স্থগিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।
অন্যদিকে জামালপুরে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৫১ প্রার্থী অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেখানে ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। প্রথম ধাপে ৮৪ জন এবং পরে আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।
কুড়িগ্রামেও সুপারিশ পাওয়ার পর নিয়োগপত্র না পাওয়া পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, ওই পাঁচজনের রিপোর্টসহ তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মন্ত্রী জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই শেষে ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত পরিস্থিতি জানা যাবে। ফলে আজ অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্তের যোগদানের দিন হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য দিনটি হয়ে উঠেছে অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার আশার দিন।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন