
বিদ্যালয় ভবনের বারান্দা ঘেঁষে গভীর পুকুর। ভবনের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে বয়ে গেছে খাল। চারপাশে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। খালের ওপর রয়েছে ভাঙা কাঠের সাঁকো। নিচে জমে আছে কচুরিপানা। দুর্গন্ধযুক্ত পানির গভীরতাও জানা নেই কারও। নেই খেলার মাঠ ও শিশুদের নিরাপদ চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান চলছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়ন পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য খালের ওপর বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো ব্যবহার করতে হয় শিক্ষার্থীদের। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। কর্দমাক্ত কাঁচা রাস্তায় শিক্ষার্থীদের চলাচলও হয়ে পড়ে দুর্ভোগের। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সেখানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী এবং ছয়জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। প্রায় ১৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে পুকুরের পাড় ঘেঁষে ২০১৮ সালের শেষ দিকে দ্বিতল একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়ের জমির প্রায় ১৭ শতাংশ অংশ পুকুরের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে পুকুরে মাটি ধসে ভবনের নিচের অংশ ফাঁকা হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে কোনো পাকা রাস্তা নেই। ভবনের উত্তর পাশে ঘেঁষে রয়েছে বড় একটি পুকুর। পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে বয়ে গেছে খাল। পশ্চিম পাশে রয়েছে স্থানীয়দের চলাচলের মাটির রাস্তা, যা কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য খালের ওপর রয়েছে একটি ভাঙা কাঠের সাঁকো। এর দক্ষিণ পাশে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি। সাঁকোর নিচে কচুরিপানা জমে থাকায় পানির গভীরতা সহজে বোঝা যায় না। প্রতিদিন স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে এই সাঁকো পার হতে হয় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাঁকো পার হওয়ার সময় অসাবধানতায় মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা পানিতে পড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতেও অনীহা প্রকাশ করছেন।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহারুল আলম বাবর বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পুকুরটি ভরাট করা হলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সংকটও দূর হবে।
পূর্ব বাতাবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যা এবং খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যালয়ের অধিকাংশ জমি পুকুরের মধ্যে রয়েছে। প্রায় ১৭ শতাংশ পুকুর ভরাট করা গেলে শিশুদের খেলাধুলার জন্য একটি মাঠ তৈরি করা সম্ভব হবে।
সহকারী শিক্ষক আহছানউল্লা বলেন, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, দ্রুত পুকুরটি ভরাটের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়ে খেলার মাঠের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন