
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের কেনা জমিতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করা হয়। উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান কাফি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ক্রয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয়।
বিদ্যালয়ের দাবি, গত সপ্তাহে সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশে তাদের রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৬ শতাংশ জমিতে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। ওই জমির পাশেই তার মালিকানাধীন জমি থাকলেও সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের জমিতে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জমি উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের জমি দখল করেননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমিটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ে উত্তরাধিকারীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত এসেছে। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে কিনে দখল বুঝে নিয়ে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন।
কাফি বলেন, “আমি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নই যে অন্যের জমি দখল করব। প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উত্তরাধিকারীদের একজন সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান দাবি করেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর মামলা চলেছে। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন। আদালতের সেই রায়ের ভিত্তিতেই ৬ শতাংশ জমি নুরুজ্জামান কাফির কাছে বায়না চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নুরুজ্জামান কাফির পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন