
সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, কয়েক টাকা ইউনিট রেট বাড়লে তেমন কোনো বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিদ্যুৎ শুধু একটি সেবা নয়; এটি অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
ফলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব ধীরে ধীরে সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা যদি ধরা হয়, একটি ছোট দোকান, ফটোকপি সেন্টার, কম্পিউটার সার্ভিসিং সেন্টার, মোবাইল সার্ভিসিং দোকান, সেলুন বা রেস্টুরেন্টের মাসিক পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুতের বিল বেড়ে গেলে তাদের ব্যবসায়িক খরচও বাড়বে।
অনেক ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত খরচ পণ্যের মূল্য বা সেবার চার্জ বাড়িয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হতে পারে। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও এটি একটি নতুন চাপ। বর্তমান সময়ে খাদ্যপণ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসাভাড়ার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিদ্যুতের বিল বাড়লে পরিবারের মাসিক বাজেট আরও সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।
অনেক পরিবারকে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হতে পারে। শুধু পরিবার বা ছোট ব্যবসা নয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শিল্প ও উৎপাদন খাতেও পড়তে পারে। কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়লে উৎপাদিত পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব কম নয়। কৃষি, সেচ, হিমাগার, ছোট শিল্প ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যুতের খরচ বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত যুক্তি দেওয়া হয় যে বিদ্যুৎ উৎপাদন, আমদানি, জ্বালানি সংগ্রহ এবং অবকাঠামো পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তুকির চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্যও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশ্ন হলো, মূল্যবৃদ্ধির ফলে যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তার ভার বহন করার সক্ষমতা সাধারণ মানুষের কতটুকু?
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় রোধ, সিস্টেম লস কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
জনগণের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। —
আহসান হাবিব
সহ-সম্পাদক, বাস্তবচিত্র ২৪
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন