
দেশের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ নগরী চট্টগ্রাম-এ পরিবহন খাতে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। সরকারিভাবে ভাড়া বৃদ্ধির কোনো ঘোষণা না থাকলেও বাস ও ট্রাক মালিকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পরিবহনে ট্রাক ভাড়া আগে ছিল ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। একইভাবে কক্সবাজার ও টেকনাফ রুটেও ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ দাবি করা হচ্ছে।
শুধু পণ্য পরিবহন নয়, যাত্রীবাহী বাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বিভিন্ন রুটে। উদাহরণ হিসেবে বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা পর্যন্ত ২২ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে ৩০-৩৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। পটিয়া ও কেরানীহাট রুটেও একইভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে। এমনকি সিএনজিচালিত যানবাহনেও অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যদিও গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার এখনো ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একটি অংশ সরকারি নির্দেশনা না মেনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
এদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চালসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পরিবহন খাতের এই অস্থিরতা আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় অনুসন্ধান
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন