
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা-এর অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি মইয়ার হাওর-এর বেরিবাঁধ ভেঙে হাওরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। রোববার (১৭ মে) ভোর প্রায় ৫টার দিকে উপজেলার ইসমাইল চত্বরের পূর্ব পাশে বড্ডর নামক স্থানে হঠাৎ করে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে পানি ঢুকতে থাকে হাওরের ভেতরে।
খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুত পানি প্রবেশ করছে। তবে স্বস্তির বিষয়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৯৯ শতাংশ কৃষক তাদের বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন। ফলে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা আপাতত কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবুও কিছু কৃষকের বস্তাবন্দী ধান এখনো হাওরের ভেতরে থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন। হঠাৎ পানি প্রবেশ করায় অনেকেই ধান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এদিকে বাঁধ ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে অনেক মানুষ হাওরে জড়ো হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে যাদের “উজাইমারা” বলা হয়, তারা সকাল থেকেই ভাঙা অংশের আশপাশে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরও একই স্থানে বাঁধ ভেঙেছিল। পরবর্তীতে সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারও একই জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, “আল্লাহর রহমতে বেশিরভাগ কৃষক ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। কিন্তু যেভাবে পানি ঢুকছে, তাতে ভয় কাজ করছে। একই জায়গায় বারবার বাঁধ ভাঙা খুবই দুঃখজনক।”
আরেক কৃষক ছমির উদ্দিন বলেন, “গত বছরও এই জায়গায় ভাঙন হয়েছিল। আগেই বলেছিলাম এখানে শক্তভাবে কাজ করা দরকার, কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।”
স্থানীয়দের মতে, মইয়ার হাওর শুধু কৃষির জন্য নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর এই হাওরের ফসলের ওপর নির্ভর করে হাজারো কৃষকের জীবিকা।
এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙা অংশ মেরামত এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন