
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। পরে তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও এক শিক্ষার্থী অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
অনশনে বসা শিক্ষার্থীর নাম মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেন।
সন্ধ্যার দিকে তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান।
অনশন শুরুর সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সাদিক বলেন, সহস্র প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও অঙ্গীকার আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদী কাঠামো সংস্কার করে যে ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার শপথ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশকে আবারও গুম, হত্যা, দুর্নীতি ও অন্যায়ের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। তাই একজন ক্ষুব্ধ নাগরিক হিসেবে জুলাইয়ের চেতনা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায় রক্ষার দাবিতে তিনি অনশন শুরু করেছেন।
দাবির বিষয়ে তিনি জানান, গণভোট নিয়ে চলমান রাজনৈতিক নাটকীয়তা বন্ধ করে গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন করে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো দ্রুত সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলোর বাইরে জুলাই সনদে উল্লেখ থাকা অন্যান্য বিষয় বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট পথনকশা প্রকাশের দাবিও জানান অনশনরত শিক্ষার্থী।
বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীতে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলেও অনশনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করেন।
এর আগে রাত সাড়ে নয়টার দিকে অনশন কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ডাকসুর সহসভাপতি সাদিক কায়েম, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ। তারা বৃষ্টিতে ভিজে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে অবস্থান করেন।
এ সময় রাজু ভাস্কর্যের সামনে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
সূত্র: গণমাধ্যম প্রতিবেদন
মন্তব্য করুন