
ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আরও কয়েকটি কেন্দ্রেও উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি নগর ও গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাপ্তাই সোলার, রাউজান-১ ও রাউজান-২, টেকনাফ সোলার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার।
এ ছাড়া সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আনলিমা এনার্জি, আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১, জুলদা-২ ও জুডিয়াক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
পিডিবির হিসাবে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ রয়েছে এবং কাগজে-কলমে কোনো লোডশেডিং নেই। পিক আওয়ারে চাহিদা ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও একই পরিমাণ। অফ-পিক আওয়ারে চাহিদা ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট। তবে নগরবাসীর অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।
নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। বুধবার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর ব্যবহার করেও অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিচালন ব্যয়।
গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সার উৎপাদনও প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ৩ মার্চ কারখানাটি উৎপাদনে ছিল। পরদিন থেকে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সিইউএফএল চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় কারখানাটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামে জনজীবনেও এর প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে সংকটটি শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করা এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন