
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বদলেছে জীবন, কিন্তু কোথাও যেন হারিয়ে গেছে মানুষের আন্তরিকতা
১৯৯০-এর দশক ছিল এক ভিন্ন আবেগের সময়। তখন জীবন ছিল অনেক ধীর, কিন্তু সম্পর্কগুলো ছিল গভীর। বিকেলের মাঠভরা খেলাধুলা, পাড়ার আড্ডা, চিঠির অপেক্ষা, সাদা-কালো কিংবা রঙিন টেলিভিশনের সামনে পরিবারের সবাই মিলে অনুষ্ঠান দেখা—এসব ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
তখন মোবাইল ফোন ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ছিল না। তবুও মানুষ একে অপরের অনেক কাছাকাছি ছিল। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি হতো সরাসরি, অনুভূতিগুলো ছিল বাস্তব এবং সম্পর্কগুলো ছিল আন্তরিক।
আজকের সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রযুক্তির উন্নয়নে পৃথিবী হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। তথ্যপ্রাপ্তি দ্রুত হয়েছে, যোগাযোগ হয়েছে সহজতর।
কিন্তু এই উন্নয়নের মাঝেও একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—আমরা কি সত্যিই আগের চেয়ে বেশি সুখী?
আজ মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযুক্ত, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই একাকী। পরিবারে একসঙ্গে বসে গল্প করার সময় কমেছে। শিশুদের মাঠের খেলাধুলার জায়গা দখল করেছে মোবাইল স্ক্রিন। বন্ধুত্বের সংজ্ঞাও অনেকটা ভার্চুয়াল হয়ে গেছে।
নব্বইয়ের দশকের মানুষ হয়তো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায়নি, কিন্তু তারা পেয়েছিল নির্মল শৈশব, পারিবারিক বন্ধন এবং মানবিক সম্পর্কের উষ্ণতা। বর্তমান প্রজন্ম পেয়েছে প্রযুক্তির বিস্ময়, তবে হারানোর তালিকাটাও কম নয়।
তাই প্রয়োজন অতীত আর বর্তমানের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া। প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে, তবে মানবিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে নয়। উন্নয়নের পাশাপাশি সম্পর্ক, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বন্ধনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
নব্বইয়ের স্মৃতি শুধু নস্টালজিয়া নয়, এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রযুক্তিতে নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের আন্তরিক সম্পর্কেই নিহিত।
আহসান হাবীব
সহ-সম্পাদক
বাস্তবচিত্র ২৪ নিউজ
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন