
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাটিয়া অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে শুরু হয়েছে রানিগঞ্জ–হলিকুনা সড়কের কার্পেটিং কাজ। শনিবার সকাল থেকে এই বহুল প্রতীক্ষিত কাজের সূচনা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কয়েক কিলোমিটার অংশ ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানিতে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ত, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি ও গর্তের কারণে যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ মিলিমিটার। কাজটি যাতে মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
তবে দেখা গেছে, অনেক পথচারী ও স্থানীয় যানবাহন চালক এখনও এই নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলছেন না। সংশ্লিষ্টরা সকলকে কয়েকদিন ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সড়কের কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে শেষ করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় টমটম সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি শুধু একটি এলাকার যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি হলিকুনা, নাছনি, হাতিয়া ও আকিল শাহ বাজার হয়ে দিরাই উপজেলায় পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক।
এছাড়া এই সড়কটি মারকুলি পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এটি বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও যোগাযোগব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয়দের দাবি, রানিগঞ্জ থেকে মারকুলি পর্যন্ত পুরো সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা হলে কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
পাশাপাশি মারকুলি–রানিগঞ্জ রুটে নিয়মিত বাস সার্ভিস চালুরও দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা মনে করেন, এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুবিধা বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন