
স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখা অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে। তেমনই এক অনন্য নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল হক চৌধুরী বাচ্চু। তিনি শুধু একজন যোদ্ধাই নন, ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং মানুষের অধিকার আদায়ে নিবেদিত একজন সমাজকর্মী।
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া ইউনিয়নের বেতাউকা গ্রামের এই কৃতি সন্তান ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দাশপাটির কমান্ডার এবং লালবাহিনির প্রধান হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তার নির্ভীক নেতৃত্ব ও সাহসিকতা ভাটিবাংলা অঞ্চলে তাকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।
মুক্তিযুদ্ধের পরও তিনি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক এবং প্রাক্তন ছাত্রনেতা হিসেবে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় সবসময় সোচ্চার ছিলেন।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, রাজনৈতিক জীবনে তিনি খুব বেশি সময় পাননি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ছাব্বিশ বছর তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তাদের ভাষায়, যদি তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতেন তবে একসময় জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে আসতে পারতেন, যা সুনামগঞ্জবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হতো।
দুঃখজনকভাবে, ১৯৯৬ সালে তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেননি। জানা যায়, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার মৃত্যু জগন্নাথপুর ও সুনামগঞ্জবাসীর জন্য এক গভীর বেদনার অধ্যায় হয়ে আছে।
বর্তমানে তিনি নিজ গ্রাম বেতাউকায় চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন। তবে তার অবদান, আদর্শ ও সাহসিকতা এখনো মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো তার জীবনসংগ্রাম ও অবদানের কথা জানে না। তাই তার ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি। কারণ, এমন বীরদের ইতিহাস শুধু অতীত নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যতের জন্যও প্রেরণার উৎস।
মন্তব্য করুন