
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ার দাবিতে রাজধানী তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে পরিবর্তন আনার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
শনিবারের (৩১ অক্টোবর) বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন আন্দোলনকারী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ইসরাইলের রাজনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আনার এটিই হয়তো শেষ সুযোগ। তারা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান।
এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন ইসরাইলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, ইসরাইলের অনেক মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুঁজছেন। তাদের প্রত্যাশা, আইজেনকোটসহ বিরোধী শিবিরের নেতারা সাধারণ মানুষের এই দাবিকে গুরুত্ব দেবেন।
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো পক্ষ
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
এ নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। একজোট হয়ে তারা মোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে আইজেনকোট তাদের সমর্থন পেলে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত। দেশটির ইহুদি রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশ এ ধরনের জোটের বিরোধিতা করছেন।
আরব দলগুলোর ভোট বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে রাআম এবং আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পড়েছে। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় আরব দলগুলোর এই ভোট ও আসনসংখ্যা এখন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভের পাল্টা কর্মসূচি নেতানিয়াহু সমর্থকদের
তেল আবিবে বিরোধীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও। তাদের বক্তব্য, তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে সরকার গঠন করা উচিত নয়।
এদিকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। তবে কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর একটি অংশ ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। এমনকি কেউ কেউ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলেও আখ্যা দিচ্ছে।
নূর ওদেহের মতে, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ভোটের গুরুত্ব বেড়েছে। কারণ, নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর জোট, বিরোধী শিবির এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থান আগামী দিনের সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন