
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তবে হামলায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ২০ জনের মরদেহ তাঁরা দেখেছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর তারাবা রাজ্যের কারিম লামিডো এলাকার বিনারি গ্রামে মোটরসাইকেলে করে হামলা চালায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তারা গ্রামটিতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি সহায়তার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হতাহতদের খোঁজে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা গ্রামে আসে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে ব্যক্তি ছিলেন বলে তাঁর দাবি।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা দোকানপাট থেকে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়া মানুষের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলও তারা নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি এএফপিকে বলেছেন, তাঁরা অন্তত ২০ জনের মরদেহ দেখেছেন। গ্রামটির বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা জানান, হামলার সময় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বিভিন্ন দিকে ছুটছিলেন। কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে, তা বুঝতে পারছিলেন না কেউ।
আরেক বাসিন্দা সাইদু নুহু জানান, হামলার পরও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
নাইজেরিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইসা সানুসি জানান, সংস্থাটি নিহতদের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। পরিবারগুলোর দাবি অনুযায়ী, হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে।
সানুসি আরও বলেন, প্রাথমিক জানাজায় ৩৭ জনের মরদেহ ছিল। তবে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার ভিক্টর শেলিজাহ বলেন, পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী বা পুলিশের পক্ষ থেকে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং হামলাকারীদের ওই এলাকার সঙ্গে পরিচিতি নিরাপত্তা কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে বলেও জানান তিনি।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দুই দশক ধরে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিনারি গ্রামের হামলার পরও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার ওই এলাকায় পুলিশের টহল অব্যাহত ছিল। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সূত্র: বিবিসি ও এএফপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন