
আগামী অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশের প্রায় ৫ কোটি নতুন ব্যবহারকারীকে ডাটা সংযোগসহ স্মার্টফোনের আওতায় আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কৃষক, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখনো ফিচার বা বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির মূলধারায় যুক্ত করাই সরকারের এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, প্রস্তাবিত একটি সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উৎপাদনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এলসিডি স্ক্রিনে প্রায় ১৭ ডলার, মাদারবোর্ড ও প্রসেসরে ২৩ ডলার এবং ব্যাটারি ও কেসিংয়ে ১৫ থেকে ১৬ ডলার ব্যয় হবে।
উৎপাদন ব্যয় ৫৫ ডলার হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি ফোনে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি ও কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়ার ফলে ফোনগুলোর প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিনিধিরা চার সপ্তাহের বেশি সময় চীনে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। সরকারও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট সহায়তা ও ঋণ সুবিধা অনুমোদন করেছে।
স্মার্টফোনের চূড়ান্ত মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটর ও বাংলাদেশ ব্যাংককে উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত করেছে।
তিনটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি স্মার্টফোনের সঙ্গে প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে ডাটা ও ভয়েস প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তুতকারকদের ভর্তুকি এবং অপারেটরদের ডিজিটাল প্যাকেজের সমন্বয়ে একজন গ্রাহকের জন্য ফোনটির কার্যকর খরচ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ইএমআই বা কিস্তি সুবিধার ওপর থাকা আগের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন যেকোনো ব্যাংক গ্রাহকদের কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার আর্থিক সুবিধা দিতে পারবে।
পাঁচ কোটি সাধারণ গ্রাহককে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের আওতায় আনার পাশাপাশি চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী আনুমানিক ২ কোটি মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এ তহবিল ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে এসওএফে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
সরকার আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশে শতভাগ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন কভারেজ নিশ্চিত করতে চায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এখনো বাটন ফোন ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ফিচার ও দামের স্মার্টফোন তৈরি করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রথম পর্যায়ের কিছু স্মার্টফোন শিগগিরই বাজারে আসতে পারে। তবে ডিলারদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিতরণ অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন