
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের চমক রাখতে যাচ্ছে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, দুর্নীতি কমানো এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানো—এই তিনটিকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।
সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য বাজেটে নতুন করনীতি, ব্যাংকিং অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল লেনদেনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বাজেটে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ এবং ‘ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে ব্যাংক হিসাবের আওতায় এনে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কর ফাঁকি কমানো যায়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা International Monetary Fund-এর শর্ত অনুযায়ী কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা কমিয়ে আনা হতে পারে। সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এসএমই খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
উন্নয়ন খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বাস্তবায়নেও বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন হবে, যা বাজেটে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই বাজেট সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন
মন্তব্য করুন