
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে ‘জাদুকর’ বিশেষণে ডাকা হয় বহুদিন ধরেই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপহার দিয়ে তিনি এই পরিচয়কে নিজের নামের সঙ্গে প্রায় স্থায়ী করে ফেলেছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন অধিকাংশ ফুটবলারের পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ে, তখনও মেসি নিজের জাদুতে মুগ্ধ করে গেছেন ফুটবলবিশ্বকে।
প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড, ট্রফি ও ব্যক্তিগত অর্জন নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। তবে মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো তার পরিসংখ্যান নয়; বরং মাঠে তার প্রভাব এবং এমন কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি করার ক্ষমতা, যা ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পরও মেসি কখনোই ফুটবলবিশ্বে নিজের আবেদন হারাননি। বরং বয়সের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে গেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির দীর্ঘ বিদায়ী বার্তা প্রকাশের পর সেটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে চিঠির বক্তব্যের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে আরেকটি বিষয়—চিঠিটি লেখার সময় ব্যবহৃত একটি বিশেষ কলম।
কলমটির খাপে থাকা কারুকাজ অনেকের কাছেই পরিচিত মনে হয়েছে। খুঁটিয়ে দেখলে সেটির সঙ্গে মিল পাওয়া যায় জনপ্রিয় হ্যারি পটার সিরিজের ‘টাইম টার্নার’-এর।
হ্যারি পটার সিরিজে টাইম টার্নার এমন একটি বিশেষ যন্ত্র, যার মাধ্যমে সময়কে পেছনে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান’ গল্পে হারমায়নি গ্রেঞ্জার ও হ্যারি পটার অতীতে ফিরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল।
আর মেসির বিদায়ী চিঠিতে সেই টাইম টার্নারের আদলে তৈরি নকশা ব্যবহার হওয়ায় নতুন করে নানা ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
মেসির বিদায়ের মুহূর্তে টাইম টার্নারের উপস্থিতিকে অনেকেই প্রতীকী হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারের পর হয়তো সময়কে আরেকবার পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাই যেন ফুটে উঠেছে এই প্রতীকে।
ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসি এমন সব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, যেগুলো ফুটবলপ্রেমীরা বারবার ফিরে পেতে চান। ২০০৮ সালের শুরুর দিকের তরুণ মেসি, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ কিংবা পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তার অসাধারণ সব সাফল্য—এসব স্মৃতি আজও সমর্থকদের আবেগের অংশ।
কিন্তু বাস্তব জীবনে সময়কে পেছনে ফেরানোর কোনো সুযোগ নেই। আর তাই মেসির মতো একজন ফুটবলারের বিদায়ও সমর্থকদের কাছে সবসময়ই কঠিন।
একজন ফুটবলারের জন্য ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার কোনো ছোট সময় নয়। এই সময়ে মেসি জিতেছেন, হেরেছেন, আবার ফিরে এসেছেন। ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রায় সব বড় অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
তবুও তার বিদায় মেনে নেওয়া কঠিন। কারণ মেসির মতো ফুটবলার শুধু ম্যাচ খেলেন না, তারা একটি প্রজন্মের স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠেন।
হয়তো টাইম টার্নারটি মেসির জন্য নয়, বরং প্রয়োজন তার কোটি কোটি সমর্থকের। যদি সময়কে আরেকবার পেছনে ফিরিয়ে নেওয়া যেত, তাহলে হয়তো ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে যেতেন মেসির শুরুর দিনগুলোতে, তার অসাধারণ মৌসুমগুলোতে কিংবা আর্জেন্টিনার হয়ে তার স্মরণীয় সাফল্যের মুহূর্তগুলোতে।
মেসি হয়তো বাস্তবের কোনো জাদুকর নন। তিনি সময়কে পেছনে ফেরাতে পারেন না। কিন্তু মাঠে তিনি এমন এক জাদু তৈরি করেছেন, যা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার নয়।
ফুটবল থেকে বিদায়ের পরও লিওনেল মেসি থেকে যাবেন তার অসংখ্য গোল, ড্রিবল, ট্রফি এবং স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। কারণ সময় চলে গেলেও স্মৃতি থেকে যায়।
আর হয়তো সেই স্মৃতিই সময়কে হার মানানোর সবচেয়ে বড় জাদু।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন