
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেছেন, একই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের ক্ষেত্রে তৈরি হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসতেন কি না।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি সফর নিয়ে আশাবাদী। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি ভারত সফরে যাবেন না। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন এবং সেখান থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে সফর করতেন কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বর মাসে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণের বিষয় নয়। বাংলাদেশের জন্য এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য যেটি ভালো হবে, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে আয়োজনের বিষয়ে কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময় ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে সফরটি হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে সফর নিয়ে আলোচনা ফের শুরু হওয়ার খবরও এসেছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নভেম্বরের কোনো এক সময়ে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুই সরকার এ বিষয়ে আলোচনা করবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন