
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধ এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম এসব দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য আজকের একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএসকে ঘিরে ছাত্রদলের একটি সশস্ত্র শোডাউনের প্রতিবাদ করেছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, হামলার সময় রড, পাইপ ও চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, গলা চেপে ধরার চেষ্টা এবং মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে এবং চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে।
হামলার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তার দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাদিক কায়েমের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন এবং পুলিশ ভয়ে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রক্টরের এমন বক্তব্যের উল্লেখ এসেছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার আশ্বাস দিয়েছে। সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা রাতের কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে সরে যান। তবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারসহ অন্যান্য দাবিতে তারা অনড় রয়েছেন।
বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার একটি পূর্ববর্তী ঘটনার কথাও তুলে ধরেন সাদিক কায়েম।
তিনি দাবি করেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃশ্যমান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন ডাকসু ভিপি।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পর তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন