
ইসলামে দাড়ি রাখা পুরুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় বিষয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ, হাদিসের নির্দেশনা এবং ইসলামী ফিকহের আলোকে দাড়ি রাখা ও দাড়ি কাটার বিধান নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—ইসলামে দাড়ি কাটা কি হারাম, নাকি জায়েজ? দাড়ি ছোট করা বা সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলার বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?
ইসলামী বিধান বুঝতে হলে এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসের প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা এবং স্বীকৃত আলেমদের ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন।
দাড়ি রাখা সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একাধিক হাদিস রয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) গোঁফ ছোট করতে এবং দাড়ি ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় দাড়ি বাড়তে দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি গোঁফ ছাঁটার কথাও এসেছে।
ইসলামী পণ্ডিতেরা এসব হাদিসের ভিত্তিতে দাড়ি রাখার বিধান ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের একটি বড় অংশের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং দাড়ি সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলা নাজায়েজ। তবে মাজহাব ও ফিকহি ব্যাখ্যাভেদে দাড়ি ছাঁটা এবং এর নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।
দাড়ি সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলার বিষয়ে ইসলামী ফিকহে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবের বহু আলেম দাড়ি সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলাকে নাজায়েজ বলেছেন। অন্যান্য মাজহাবের আলেমদের মধ্যেও দাড়ি কামানো বা ছোট করার বিধান নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
তাই দাড়ি কাটা সম্পর্কে এককথায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে কোন ধরনের কাজ বোঝানো হচ্ছে, কোন ফিকহি মত অনুসরণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট আলেমদের ব্যাখ্যা কী—এসব বিবেচনা করা জরুরি।
দাড়ি সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলা, দাড়ি ছোট করা এবং অগোছালো অংশ ছাঁটা—এগুলোকে একই বিধানের মধ্যে ফেলা ঠিক নয়। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
দাড়ির দৈর্ঘ্য নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু ফিকহি ব্যাখ্যায় এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখার কথা বলা হয়েছে। আবার দাড়ি ছাঁটার সীমা ও পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন আলেমের ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
এ কারণে এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখলেই তা সব মত অনুযায়ী একইভাবে নিষিদ্ধ—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া যথাযথ নয়। এ বিষয়ে অনুসৃত মাজহাব ও আলেমদের ব্যাখ্যা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি মানুষের চরিত্র, সততা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার এবং অন্যের অধিকার রক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই দাড়ি রাখার বিধান জানার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ, রোজা, হালাল উপার্জন, উত্তম আচরণ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
ধর্মীয় কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে অন্যকে অপমান বা হেয় না করে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে আলোচনা করাই উত্তম।
ইসলামে দাড়ি রাখা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সহিহ হাদিসে দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে এবং বহু আলেম দাড়ি রাখা ওয়াজিব বলে মত দিয়েছেন। তবে দাড়ি সম্পূর্ণ কামানো, ছোট করা এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বজায় রাখার বিধান নিয়ে ফিকহি ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
সঠিক ধর্মীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য হাদিস, স্বীকৃত ফিকহি ব্যাখ্যা এবং অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন