যাঁর আগমনে আলোকিত হয়েছিল মানবতা, সেই নবীজির জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানবজাতির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যেগুলো কেবল একটি সময়ের নয়—যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালিয়ে রাখে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর পৃথিবীতে আগমন তেমনই এক মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আগমন ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত এক সমাজের জন্য আলোর বার্তা, অন্যায়-অবিচারে ক্লান্ত মানুষের জন্য ন্যায় ও শান্তির আহ্বান এবং মানবতার জন্য অনুপম এক আদর্শ।

প্রচলিত ইসলামী মত অনুযায়ী, ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্মদিন হিসেবে স্মরণ করা হয়। তাঁর জন্ম হয় মক্কা নগরীতে, কুরাইশ বংশের সম্মানিত বনু হাশিম পরিবারে। পিতা আবদুল্লাহ তাঁর জন্মের আগেই ইন্তেকাল করেন। মা আমিনা বিনতে ওয়াহাবের স্নেহে শৈশবের শুরু হলেও অল্প বয়সেই তিনি মাতৃহারা হন। এরপর দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং পরে চাচা আবু তালিব তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।

অন্ধকার যুগে আলোর আবির্ভাব

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্মের আগে আরব সমাজে নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ছিল। গোত্রীয় সংঘাত, অন্যায়, দুর্বলদের ওপর অত্যাচার, নারীদের প্রতি অবমাননা, সুদ, মদ ও নানা অনাচার সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে ছিল। এমন এক সময়ে মহানবী ﷺ-এর আগমন মানবতার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন—মানুষের মর্যাদা তার বংশ, সম্পদ কিংবা ক্ষমতায় নয়; বরং তার তাকওয়া ও সৎকর্মে।

সত্যবাদিতা ও আমানতের অনন্য দৃষ্টান্ত

নবুয়ত লাভের আগেই মহানবী ﷺ মানুষের কাছে ‘আল-আমিন’—বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মক্কার মানুষ তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও চরিত্রের প্রতি গভীর আস্থা রাখত।

৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ, ন্যায়, সত্য, মানবিকতা, ক্ষমা ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেন।

প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা

মহানবী ﷺ-এর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি ছিল মক্কা বিজয়। যারা তাঁকে ও তাঁর সাহাবিদের বছরের পর বছর নির্যাতন করেছিল, তাদের অনেকেই সেদিন তাঁর সামনে অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। চাইলে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমার পথ বেছে নেন।

এ ঘটনা তাঁর মহান চরিত্রের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে—ক্ষমতা হাতে পেয়েও প্রতিহিংসাকে বেছে না নেওয়া।

নারীর মর্যাদা ও মানবাধিকারের শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ ﷺ নারীর মর্যাদা, এতিমের অধিকার, প্রতিবেশীর হক, শ্রমিকের অধিকার এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্বের বিষয়ে বারবার মানুষকে সচেতন করেছেন।

বিদায় হজের ভাষণে তিনি মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন। বর্ণ, গোত্র ও জাতিগত অহংকারের পরিবর্তে পারস্পরিক মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দেন।

আজও কেন এত ভালোবাসা?

মহানবী ﷺ-এর প্রতি মুসলমানদের ভালোবাসা কেবল একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভালোবাসা নয়। তাঁর জীবন মুসলমানদের কাছে ঈমান, চরিত্র, ইবাদত, পরিবার, সমাজ ও মানবিকতার পূর্ণাঙ্গ আদর্শ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁকে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’—উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর জীবন তাই শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিদিনের জীবনে সত্যবাদিতা, ধৈর্য, ক্ষমা, দয়া ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথনির্দেশ।

ভালোবাসা হোক তাঁর আদর্শ অনুসরণে

মহানবী ﷺ-এর জন্মদিন স্মরণ করার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করা। তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি আমাদের আচরণে সত্যবাদিতা, মানুষের প্রতি দয়া, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং ক্ষমাশীলতার চর্চা করা প্রয়োজন।

আজকের বিভাজন, হিংসা ও অস্থিরতার পৃথিবীতে মহানবী ﷺ-এর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষকে জয় করার সবচেয়ে শক্তিশালী পথ হলো ভালোবাসা, দয়া, সত্য ও উত্তম চরিত্র।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

📰 সাংবাদিক নিয়োগ চলছে

সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

  • ✔️ অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার
  • ✔️ মোবাইল দিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ
  • ✔️ স্থানীয় সংবাদ পাঠানোর সুযোগ
  • ✔️ সম্মানী ও অফিসিয়াল পরিচয়পত্র প্রদান

📞 ফোন: 01405689747

📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com

এখনই আবেদন করুন

📍 Bastobchitro24 News Team

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পূজামণ্ডপে মুসলিমদের যাওয়া নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

১

ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ, ক্ষোভের কেন্দ্রে শিক্ষা ও ব্যয়

২

অস্ত্র হাতে অভিযানের জের, ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ

৩

দেব-জিতের একসঙ্গে সিনেমা, ২০২৭ সালের পূজায় আসছে চমক?

৪

সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬

৫

ভারতের গোয়ালিয়রে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় নিহত ১২ পুণ্যার্থী

৬

রায়পুরে মন্দিরে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

৭

সরকারি কোয়ার্টারে সাবলেট, অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

৮

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কীর্তিনাশার দুই সেতু, ভোগান্তিতে মানুষ

৯

সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিল বিএসএফ

১০

দিল্লিতে আটক এআইএসএ নেত্রী মুক্ত, হেফাজতে অভিজিৎ

১১

আজ শনিবার খোলা থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

১২

সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

১৩

ধানমন্ডিতে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, মারধর নিয়ে বিতর্ক

১৪

ছাত্ররা জীবন না দিলে দেশে ফিরতে পারতেন না তারেক রহমান’: নাহিদ

১৫

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় আহত ৫ শিক্ষার্থী, ভাঙচুর প্রাইভেট কার

১৬

সিলেটের লালাখাল: নীল-সবুজ পানির টানে ছুটছেন পর্যটকরা

১৭

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি, আন্দোলন চলার ঘোষণা

১৮

দুই দিন বন্ধ থাকবে এলপিজির দোকান, সাত দফা দাবি ব্যবসায়ীদের

১৯

বিধবা-বেকার কার্ড চালু হলে আগে এমপিদের স্ত্রীরা নেবেন

২০