দেখে মনে হবে ঈদ বা কোনো অনুষ্ঠানের মাংস কাটার এমন আয়োজন, তবে ভেতরের গল্পটা একটু ব্যতিক্রম। ফজরের নামাজ শেষে গ্রামের মাঝে লোকদের ভিড়। হচ্ছে গরু জবাই। সমাজের সব মানুষ পাবে এই গরুর মাংসের ভাগ। বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে লালন করে প্রতিবছর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এমন আয়োজন চলে আসছে প্রায় শত বছর ধরে।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) এমনই এক আয়োজন হয়েছে উপজেলার তোষাই-জোড়গাড়ী গ্রামে। এ ধারাবাহিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠরা।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই পথ দিয়ে যাবার পথে চোখে পড়ল একটি গ্রামের মাঝে এমন এক দৃশ্য। কেউ মাংস কাটছে কেউ মাংস খণ্ড খণ্ড করে ভাগ করছে।
মাংস এমনভাবে ভাগ করার বিষয় জানতে চাইলে ওই গ্রামের শতবর্ষ বয়সের একজন বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ। আমাদের ভালো-মন্দ আত্মীয়-স্বজন সবকিছু যেন নির্ভর করে ধানের ওপরে। অনেক পরিবার আছে ইচ্ছে করলে সব সময় তারা ভালোমন্দ হয়তো খেতে পারে না। যেহেতু ধান তোলার আগ মুহূর্তে কৃষকদের কাছে অনেক সময় টাকা-পয়সার একটা সংকট থাকে। সেই সময় গ্রামের ধণাঢ্য কোনো ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে গরু বা মহিষ কিনে জবাই করে এই গোস্তগুলো আমরা গ্রামের বিভিন্ন মানুষের মাঝে এটা বিতরণ করে থাকি। ধান উঠলে আবার টাকাগুলো তাকে পৌঁছে দেই। তবে এ ধরনের আয়োজন অনেক আগ থেকে হয়ে আসছে।
এ বিষয়ে যুব সমাজের কয়েকজন বলেন, নিজেদের টাকা দিয়ে তারা গরু ক্রয় করে। সেই গরু জবাই করে গ্রামের সবার মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। ধান কাটামারা শেষে সেই টাকা পরিশোধ করেন গ্রামের লোকজন। তবে আয়োজকরা মাংস বিক্রিতে কোনো লাভ নেন না। এমন আয়োজন চলে আসছে পূর্বপুরুষের সময় থাকে। মাঝে কিছুদিন বন্ধ ছিল। তবে এবারও যুব সমাজের পক্ষ থেকে একটি বড় মহিষ তিনজন মিলে আমরা কিনেছি। ফজরের নামাজের পর এটা জবাই করা হয়েছে এবং তালিকা অনুসারে প্রত্যেকটা পরিবারকে মাংস দেয়া হবে।
তবে এই মাংসের টাকা ধান উঠলে পরিশোধ করবে। কোনো লাভ নেওয়া হবে না। বাপ-দাদার আমলে এই প্রথা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা তাদের।
এ জাতীয় আরো খবর..