রাজনৈতিক ‘গডফাদার’ বদলেছে, বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

ছবি সংগৃহীত

বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও নানা উদ্যোগের পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থামছে না। বরং রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় নতুন নতুন গ্রুপ তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো গ্রুপগুলোর সদস্যসংখ্যাও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরদের সংঘবদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু এলাকায় কথিত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবর্তন এলেও কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তাদের দাবি। তবে এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন যাচাই করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, মাদক, চাঁদাবাজি, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি এবং কিশোরদের অপরাধী চক্রে ব্যবহারের প্রবণতা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

মোহাম্মদপুরে বাড়ছে গ্রুপের সংখ্যা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোহাম্মদপুরে তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ছিল ১৩টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে পুলিশের তালিকার বাইরে আরও অন্তত কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাড়া দে, ভইর‌্যা দে-সহ কয়েকটি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের নদীর পাড়, একতা হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, সাত মসজিদ হাউজিং, বসিলা ৪০ ফিট, বসিলা সিটি, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, কলেজ গেট ও আসাদগেট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার কথা স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকার কোথাও কোথাও সন্ধ্যার পর কিশোরদের দলবদ্ধভাবে আড্ডা দেওয়া এবং মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। কিছু গ্রুপের সদস্যদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের তালিকায় ২০টি গ্রুপ

প্রতিবেদনে পুলিশের তালিকা অনুযায়ী মোহাম্মদপুর এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং হিসেবে পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই, ফরহাদ গ্রুপ, আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, ডাইল্ল্যা গ্রুপ, এলেক্স গ্রুপ, আকবর গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, রক্তচোষা গ্রুপ, ‘ল’ ঠেলা, আশরাফ গ্রুপ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল, টক্কর ল, চেতাইলে ভেজাল ও ঘুটা দে-সহ কয়েকটি গ্রুপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আদাবর এলাকায় কবজি কাটা গ্রুপ, মেন্টাল গ্রুপ ও মিরাজ গ্রুপের তৎপরতার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব গ্রুপের সব সদস্য একই ধরনের অপরাধে জড়িত নয়। তবে বিভিন্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মারামারি, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

হুঁশিয়ারির পরও ছিনতাই

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের বসিলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মোহাম্মদপুরে ‘কিশোর গ্যাং’ বলে কোনো শব্দ আর থাকবে না।

কিন্তু এর মাত্র কয়েক দিন পরই প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর সাদেক খান রোডে হৃদয় মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার হন। তাকে কুপিয়ে ২০ হাজার টাকা ও একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের কঠোর অবস্থান ঘোষণার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটায় কিশোর গ্যাং দমনে চলমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ

প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মোহাম্মদপুরের বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের ওপর স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ বা পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে যেসব রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তির নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ফলে এসব বিষয়কে তদন্তসাপেক্ষ অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান, বসিলা ও কৃষি মার্কেট এলাকার কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আদাবর এলাকাতেও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তরায়ও একাধিক কিশোর গ্যাং

রাজধানীর উত্তরা এলাকাতেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন আবদুল্লাহপুর এলাকাকে কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির অন্যতম স্পট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘প্রিন্স গ্রুপ’ নামে একটি গ্রুপের প্রায় ৫০ সদস্যের তৎপরতার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির নেতৃত্বে স্থানীয় যুবদল নেতা বাবু ওরফে প্রিন্স বাবু রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রুপের কয়েকজন সদস্যকে চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তরা এলাকার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, মাছের আড়ত ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

‘বিগবস’ গ্রুপের বড় নেটওয়ার্ক

উত্তরা এলাকায় আলোচিত আরেকটি গ্রুপ ‘বিগবস’। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫ শতাধিক।

গ্রুপটির মূল হোতা ছোট খান ওরফে বিগবস বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টঙ্গীর বাস্তুহারা বস্তি ঘিরে গ্রুপটির কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের এলাকায় তাদের তৎপরতা ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গ্রুপটির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে শাওন, শাহিন, মোবারক, রেদোয়ান, গ্যাঞ্জাম সানি, ইমন, আশরাফ, পাপ্পু ও শিমুলসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদনে এসেছে।

‘দে লাড়া’ গ্রুপ নিয়েও অভিযোগ

উত্তরা এলাকায় সক্রিয় আরেকটি কিশোর গ্যাং ‘দে লাড়া’। প্রতিবেদনে গ্রুপটির নেতৃত্বে সাকিব হাসান সানি ওরফে পিচ্চি সানির নাম এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাকিব হাসান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরা পূর্ব থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রায়হান ইসলাম ওরফে লাপাত্তা রায়হানের নামও এসেছে।

স্থানীয় থানা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় এ গ্রুপের একটি আস্তানা রয়েছে। উত্তরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই, মারামারি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রুপটির সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির নেতা সাকিব হাসানকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

দক্ষিণখানে ‘দেওয়ান’ গ্রুপ

দক্ষিণখান এলাকার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলতলা-মোল্লারটেক এলাকায় ‘দেওয়ান গ্রুপ’-এর তৎপরতার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রুপটির নাম ফরহাদ দেওয়ানের নাম অনুসারে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রুবেল ওরফে আউলিয়া রুবেল, ডিব্বা রনি, মশলা মামুন, মূসা, কসাই বাবু, সেলিম, আলামিন, রুকু ও সুমনের নাম সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ফরহাদ দেওয়ানের কথিত পৃষ্ঠপোষক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এস এ খোকনের নামও এসেছে। এটিও প্রতিবেদনে উল্লিখিত একটি অভিযোগ; এর স্বাধীন যাচাই করা হয়নি।

সিনহা, নুর খান ও হৃদয় বাহিনী

উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন রানাভোলা ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় ‘সিনহা গ্রুপ’-এর তৎপরতার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গ্রুপটির নেতৃত্বে তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সিনহা রহমান রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের খাতায় আলিফ, আলবিন, সিয়াম, জহির ও আরাবিয়ানসহ আরও কয়েকজনের নাম থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া রানাভোলা-সবুজছাতা এলাকার যৌতুক রোডসংলগ্ন এলাকায় ‘ইলেভেন গ্রুপ’-এর একটি কথিত টর্চার সেলের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তরা ১০ ও ১১ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন ফুলবাড়িয়া ও টেকপাড়া এলাকায় ‘নুর খান গ্রুপ’-এর তৎপরতার কথা বলা হয়েছে। গ্রুপটির নেতা নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর খান। তার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে আরিফ ওরফে মুরগি আরিফ, নূরনবী ও আলমের নাম প্রতিবেদনে এসেছে।

তাদের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজলক্ষ্মী-আজমপুরেও তৎপরতা

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকাকেও কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম হটস্পট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজলক্ষ্মী মার্কেটের পেছনের স্বপ্নের গলি এবং আজমপুর আমির কমপ্লেক্স মার্কেটের পেছনে কিশোর গ্যাং সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়।

কেউ কেউ ফুটপাতে ভ্যান ও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সন্ধ্যার পর ৫ ও ৭ নম্বর সেক্টরেও তাদের আনাগোনা বাড়ে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিরপুরেও একাধিক গ্রুপ

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার বাউনিয়া বাঁধ, লালমাটিয়া ও পলাশনগরে একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার কথা প্রতিবেদনে এসেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গ্রুপের কিছু অংশের নেতৃত্বে স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা হয়নি।

বাউনিয়া বাঁধ বি-ব্লকের কলাপট্টি থেকে কালশী স্ট্যান্ড পর্যন্ত ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘সানি গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অ্যাভিনিউ-৫, আদর্শনগর, পলাশনগর ও নান্নু মার্কেট এলাকাতেও কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার কথা বলা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত সদস্য ৫ হাজারের বেশি

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণকারী বা কথিত পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবর্তন এসেছে।

একই সঙ্গে পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে পুলিশের তালিকায় প্রায় ২ হাজার সদস্যের নাম ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজারের বেশি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্রুপের সংখ্যা দেড় শতাধিক হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

তবে এগুলো প্রতিবেদনে উদ্ধৃত পুলিশি হিসাব। রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের প্রকৃত সদস্যসংখ্যা নির্ধারণে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়মিত হলেও বিভিন্ন এলাকায় তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকার তথ্য সামনে এসেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেছেন, রাজধানীতে ‘কিশোর গ্যাং’ নামের কোনো শব্দ আর থাকবে না এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয়ে নজর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু গ্রেপ্তার বা অভিযান যথেষ্ট নয়। কিশোরদের অপরাধী চক্রে ব্যবহার বন্ধ, মাদক ও চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তদন্ত, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি এবং কিশোরদের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করার মতো উদ্যোগও প্রয়োজন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে নতুন করে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা নগরবাসীর নিরাপত্তা ও কিশোরদের ভবিষ্যৎ—দুই দিক থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

📰 সাংবাদিক নিয়োগ চলছে

সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

  • ✔️ অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার
  • ✔️ মোবাইল দিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ
  • ✔️ স্থানীয় সংবাদ পাঠানোর সুযোগ
  • ✔️ সম্মানী ও অফিসিয়াল পরিচয়পত্র প্রদান

📞 ফোন: 01405689747

📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com

এখনই আবেদন করুন

📍 Bastobchitro24 News Team

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজনৈতিক ‘গডফাদার’ বদলেছে, বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমে আজ বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস খোলা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই চড়া রাজধানীর সবজির বাজার

৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ, অপ্রতিম হত্যা তদন্তে নতুন তথ্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি ২০২৭

ইউএনজিএতে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এক লাফে ২০ টাকা বাড়ল ডিজেল-পেট্রলসহ সব জ্বালানি তেলের দাম

মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত তুরস্ক

ভোরের মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা

১০

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কমছে, চার দেশের সহায়তা চাইল সৌদি

১১

বনশ্রীতে দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোনের শিক্ষিকা নিহত

১২

রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে ভারতসহ ১০ দেশের পণ্যে ১০০% শুল্ক

১৩

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলা

১৪

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ ৬ অক্টোবর

১৫

প্রথম সচিব সভায় ডিজিটাল হাজিরা ও দুর্নীতি রোধে গুরুত্ব

১৬

নতুন পে-স্কেলে কমছে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্টের হার

১৭

এসএসসিতে পাস করেও একাদশে আবেদন করেনি প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী

১৮

ট্রাইব্যুনাল’ থেকে সরে দাঁড়ালেন নুসরাত ফারিয়া

১৯

জ্বালানি সংকট কাটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা

২০