
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মাসিক সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্ধারিত হারে এ ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর আগে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বর্তমানে প্রচলিত হারেই সীমান্ত ভাতা পাবেন।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখা থেকে গেজেট জারি করা হয়েছে। সরকারি গেজেটের তালিকা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা আদেশটি অতিরিক্ত সংখ্যায় ২৫৩১১-২৫৩১২ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখার যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম এতে স্বাক্ষর করেছেন।
গ্রেড ও চাকরির বয়স অনুযায়ী ভাতা
নতুন গেজেট অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুসারে কর্মচারীর গ্রেড এবং চাকরির বয়স বিবেচনায় সীমান্ত ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একই গ্রেডের কর্মচারীর চাকরির বয়স ভিন্ন হলে তাদের সীমান্ত ভাতার পরিমাণও ভিন্ন হবে।
চাকরির বয়সকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে—৫ বছরের কম, ৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম, ১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম, ১৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম এবং ২০ বছর বা তার বেশি।
গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬
গেজেট অনুযায়ী, গ্রেড-২০ কর্মচারীরা চাকরির বয়স ৫ বছরের কম হলে মাসে ১ হাজার ৪৪০ টাকা সীমান্ত ভাতা পাবেন। ৫ থেকে ১০ বছরের কম বয়সে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ থেকে ১৫ বছরের কম বয়সে ২ হাজার ১৬০ টাকা, ১৫ থেকে ২০ বছরের কম বয়সে ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি হলে ৩ হাজার ১২০ টাকা পাবেন।
গ্রেড-১৯-এ ভাতার হার যথাক্রমে ১ হাজার ৫৬০, ১ হাজার ৯২০, ২ হাজার ২৮০, ২ হাজার ৭৬০ ও ৩ হাজার ২৪০ টাকা।
গ্রেড-১৮-এ এই হার ১ হাজার ৬৮০, ২ হাজার ৪০, ২ হাজার ৪০০, ২ হাজার ৮৮০ ও ৩ হাজার ৩৬০ টাকা।
গ্রেড-১৭ কর্মচারীরা পাবেন যথাক্রমে ১ হাজার ৮০০, ২ হাজার ১৬০, ২ হাজার ৬৪০, ৩ হাজার ও ৩ হাজার ৬০০ টাকা।
গ্রেড-১৬-এ সীমান্ত ভাতার হার ১ হাজার ৯২০, ২ হাজার ২৮০, ২ হাজার ৭৬০, ৩ হাজার ২৪০ ও ৩ হাজার ৮৪০ টাকা।
গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১২
গ্রেড-১৫-এর কর্মচারীদের জন্য চাকরির বয়স অনুযায়ী সীমান্ত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪০, ২ হাজার ৪০০, ২ হাজার ৮৮০, ৩ হাজার ৪৮০ ও ৪ হাজার ৮০ টাকা।
গ্রেড-১৪-এ এই হার যথাক্রমে ২ হাজার ১৬০, ২ হাজার ৬৪০, ৩ হাজার ২৪০, ৩ হাজার ৮৪০ ও ৪ হাজার ৫৬০ টাকা।
গ্রেড-১৩-এ কর্মচারীরা পাবেন ২ হাজার ২৮০, ২ হাজার ৭৬০, ৩ হাজার ৩৬০, ৪ হাজার ৮০ ও ৪ হাজার ৮০০ টাকা।
গ্রেড-১২-এ সীমান্ত ভাতার হার হবে ২ হাজার ৫২০, ৩ হাজার, ৩ হাজার ৬০০, ৪ হাজার ৩২০ ও ৫ হাজার ২৮০ টাকা।
গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-৬
গ্রেড-১১-এর কর্মচারীরা চাকরির বয়স অনুযায়ী মাসে ২ হাজার ৬৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫২০ টাকা পর্যন্ত সীমান্ত ভাতা পাবেন।
গ্রেড-১০-এ এই ভাতার পরিমাণ ২ হাজার ৭৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬৪০ টাকা।
গ্রেড-৯-এ ২ হাজার ৮৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা, গ্রেড-৮-এ ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ২৪০ টাকা এবং গ্রেড-৭-এ ৩ হাজার ১২০ থেকে ৬ হাজার ৩৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর গ্রেড-৬-এর কর্মচারীরা চাকরির বয়স ৫ বছরের কম হলে ৩ হাজার ২৪০ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৮০ টাকা মাসিক সীমান্ত ভাতা পাবেন।
এক নজরে নতুন সীমান্ত ভাতা
গ্রেড ৫ বছরের কম ৫-১০ বছর ১০-১৫ বছর ১৫-২০ বছর ২০ বছর বা বেশি
গ্রেড-২০ ১,৪৪০ ১,৮০০ ২,১৬০ ২,৬৪০ ৩,১২০
গ্রেড-১৯ ১,৫৬০ ১,৯২০ ২,২৮০ ২,৭৬০ ৩,২৪০
গ্রেড-১৮ ১,৬৮০ ২,০৪০ ২,৪০০ ২,৮৮০ ৩,৩৬০
গ্রেড-১৭ ১,৮০০ ২,১৬০ ২,৬৪০ ৩,০০০ ৩,৬০০
গ্রেড-১৬ ১,৯২০ ২,২৮০ ২,৭৬০ ৩,২৪০ ৩,৮৪০
গ্রেড-১৫ ২,০৪০ ২,৪০০ ২,৮৮০ ৩,৪৮০ ৪,০৮০
গ্রেড-১৪ ২,১৬০ ২,৬৪০ ৩,২৪০ ৩,৮৪০ ৪,৫৬০
গ্রেড-১৩ ২,২৮০ ২,৭৬০ ৩,৩৬০ ৪,০৮০ ৪,৮০০
গ্রেড-১২ ২,৫২০ ৩,০০০ ৩,৬০০ ৪,৩২০ ৫,২৮০
গ্রেড-১১ ২,৬৪০ ৩,২৪০ ৩,৮৪০ ৪,৫৬০ ৫,৫২০
গ্রেড-১০ ২,৭৬০ ৩,৩৬০ ৩,৯৬০ ৪,৬৮০ ৫,৬৪০
গ্রেড-৯ ২,৮৮০ ৩,৪৮০ ৪,০৮০ ৫,০৪০ ৬,০০০
গ্রেড-৮ ৩,০০০ ৩,৬০০ ৪,২০০ ৫,১৬০ ৬,২৪০
গ্রেড-৭ ৩,১২০ ৩,৭২০ ৪,৩২০ ৫,২৮০ ৬,৩৬০
গ্রেড-৬ ৩,২৪০ ৩,৮৪০ ৪,৫৬০ ৫,৪০০ ৬,৪৮০
উপরের হারগুলো গেজেটভিত্তিক প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সর্বোচ্চ ভাতা ৬ হাজার ৪৮০ টাকা
নতুন কাঠামো অনুযায়ী তালিকাভুক্ত গ্রেডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সীমান্ত ভাতা পাবেন গ্রেড-৬-এর সেই কর্মচারীরা, যাদের চাকরির বয়স ২০ বছর বা তার বেশি। তাদের মাসিক সীমান্ত ভাতা হবে ৬ হাজার ৪৮০ টাকা।
অন্যদিকে গ্রেড-২০ এবং চাকরির বয়স ৫ বছরের কম হলে সীমান্ত ভাতা হবে মাসে ১ হাজার ৪৪০ টাকা।
অর্থাৎ গ্রেড ও চাকরির বয়সের ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকবে।
২০২৮ সালের আগে পুরোনো হার
গেজেটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নতুন আদেশ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্মচারীরা আগের নিয়মে সীমান্ত ভাতা পাবেন।
এ ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবরের ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৪৪.০৫৮.১৫-৮২ নম্বর স্মারকের বিধান অনুসরণ করা হবে।
অর্থাৎ নতুন গেজেট প্রকাশ হলেও ২০২৬ বা ২০২৭ সাল থেকে নতুন হারে ভাতা দেওয়ার বিধান কার্যকর হচ্ছে না। নতুন হার কার্যকর হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের জন্য বিশেষ শর্ত
প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্যও গেজেটে বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে।
কোনো প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারী সীমান্ত ভাতা গ্রহণ করলে তিনি নিজ নিজ বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না।
অর্থাৎ একই সময়ে সীমান্ত ভাতার পাশাপাশি এসব নির্দিষ্ট ভাতা গ্রহণের সুযোগ থাকবে না বলে গেজেটে শর্ত দেওয়া হয়েছে।
সরকারি গেজেটে প্রকাশ
বাংলাদেশ সরকারের সরকারি প্রেসের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর অতিরিক্ত সংখ্যার গেজেট তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য মাসিক সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণের আদেশটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি গেজেটে এর পৃষ্ঠা নম্বর ২৫৩১১-২৫৩১২ উল্লেখ রয়েছে।
নতুন কাঠামোতে গ্রেড ও চাকরির বয়সকে ভিত্তি করে ভাতা নির্ধারণের ফলে ২০২৮ সাল থেকে বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সীমান্ত ভাতা নতুন হারে হিসাব করা হবে। তবে ২০২৮ সালের আগে পর্যন্ত আগের হারই বহাল থাকবে।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন