
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা এখনো ফিরে আসেনি। বরং বিভিন্ন জাতীয় ও সাংগঠনিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মধ্যে মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়তে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে বর্তমানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া আওয়ামী লীগ।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বাইরে থাকে এবং সাংগঠনিকভাবেও দুর্বল অবস্থানে পড়ে। দলটির প্রত্যাশা ছিল কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। পরে নতুন সরকারও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ বিএনপি সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ গভীর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের ধারণা, বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত বা বিভক্তি তৈরি হলে সেই সুযোগে তারা পুনরায় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ফাটল তৈরি হলে তৃতীয় কোনো শক্তি বা আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ নিতে পারে। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও সীমিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত বহন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে। সংসদে ও জনসভাগুলোতেও দলগুলোর নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।
এদিকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে। নোয়াখালী, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দাবি করেছেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পরিবেশ তৈরি করছে। অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে বিভক্তি অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে। তার মতে, দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধান দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সংলাপের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে তার সুবিধাভোগী হতে পারে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগ। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।
সূত্র:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, দলীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
📞 ফোন: 01405689747
📧 ইমেইল: news@bastobchitro24.com
📍 Bastobchitro24 News Team
মন্তব্য করুন