ঢাকাসোমবার , ২৫ জুলাই ২০২২
  1. #সর্বশেষ সংবাদ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উদ্যোক্তা
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. পজিটিভ বাংলাদেশ
  15. প্রবাস

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সুফল মিলছে না

ঢাকা অফিস
জুলাই ২৫, ২০২২ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দুই সিটির নানা কার্যক্রমের পরও মৃত্যু ও আক্রান্ত বাড়ছে, এ আবহাওয়ায় সংক্রমণ বাড়বে মত বিশেষজ্ঞদের

এখন শ্রাবণ মাস, বর্ষা মৌসুম। প্রকৃতিতে এখন বৃষ্টি আর রোদ। এমন আবহাওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত মৌসুম। ডেঙ্গু পরিস্থিতিও এখন ঊর্ধ্বমুখী। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নানা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কাজে আসছে না। প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, ডেঙ্গু সংক্রমণের এটাই উপযুক্ত সময়। এ ব্যাপারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরম খেসারত দিতে হবে ঢাকাবাসীকে।

তারা বলছেন, ডেঙ্গু রোগী বাড়বে সেটা জানুয়ারিতে বোঝা যাচ্ছিল। তখন থেকে সিটি করপোরেশনকে সতর্ক হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তখন সিটি করপোরেশন জনসচেতনতামূলক কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করা ছাড়া তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম। আর ২০২০ সালের তুলনায় অর্ধেক।
তিনি বলেন, বছরের প্রথম দিকে কীটতত্ত্ববিদরা বলেছিলেন, এবারও এডিসের সংক্রমণ ২০১৯ সালকে ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। এর অন্যতম কারণ, সিটি করপোরেশন তদারকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু থেকে মুক্তির বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো তথ্য মতে, ২৩ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ২৪ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬৫ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৫৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ছয়জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সারা দেশে ২৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ৬৪ জন ডেঙ্গু ভর্তি রয়েছেন। এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৪৬ জন। আর ২৪ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে সে বিষয়ে ৩ এপ্রিল তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওখানে বলা হয়, ঢাকার ৪.৫৩ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে ২৫ মার্চ থেকে চলা এ জরিপের ১০ দিনে এমন চিত্র মিলেছে বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ মার্চ থেকে দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে ২১ জন কীটতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে গঠিত দল ১০ দিনে ৩ হাজার ১৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ১৪৩টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। বাড়িতে লার্ভা শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই প্রতিবেদনের সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি মেয়র একমত পোষণ করে তারা নগরবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানোর কর্মসূচি হাতে নেন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা তৈরি করতে ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। আর উত্তর সিটি করপোরেশনও একই কাজ করছে। এ ছাড়া সংস্থাটির মেয়র প্রতি শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নিজ নিজ বাসা পরিষ্কার করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ড্রোন ব্যবহার করছে। মশক নিধনে দুই সিটির বরাদ্দ অর্থ পর্যাপ্ত। এর মধ্যে মশক নিধনে ঢাকা উত্তরে (ডিএনসিসি) চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৮৫ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণে (ডিএসসিসি) বরাদ্দ ২৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই বরাদ্দের আওতায় নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইডিং করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের এমন কার্যক্রমের পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

জানতে চাইলে কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখনই ডেঙ্গুর সংক্রমণ উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আর এ আবহাওয়ায় আরও একটু বাড়তে পারে। তবে করোনা সংক্রমণের এই সময়ে বেশি একটা বাড়বে না। কারণ মানুষ এখন কিছুটা সচেতন। জ্বর হলে মানুষ বের হয় না। তাই সংক্রমণও তেমন বাড়বে না। আর যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়, সেখানে নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড পরিচালনা করলে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনকে কার্যক্রম পরিচালনায় আরও তৎপর হতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গু থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।