ঢাকাশুক্রবার , ১০ জুন ২০২২
  1. #সর্বশেষ সংবাদ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উদ্যোক্তা
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. পজিটিভ বাংলাদেশ
  15. প্রবাস

ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট

ঢাকা অফিস
জুন ১০, ২০২২ ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ

করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সঙ্কটে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। যার বহুমুখী প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। এতে নিত্যপণ্য ও সেবার দাম হু হু করে বাড়ছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অব্যাহত অবমূল্যায়নের ফলে কমে যাচ্ছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। বেড়ে যাচ্ছে মূল্যস্ফীতির হার। অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগের গতিও বেশ কয়েক বছর ধরে নিম্নমুখী। এতে কর্মস্থানের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আছে আগামী জাতীয় নির্বাচন। এ অবস্থায় অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এতো অস্বস্তির মধ্যে মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে চায় সরকার। এ জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সকল সঙ্কট কাটিয়ে নতুন উদ্দীপনা আনতে কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং নগদ ঋণ খাতে ব্যয় বাড়ানোকে। তার লক্ষ্য এর মাধ্যমে চলমান অর্থনীতি, উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী তথা ক্রেতা-ভোক্তার সক্ষমতার উন্নয়ন। আর তাই এমন উচ্চাশা নিয়ে বড় সঙ্কটের মধ্যেও বিশাল বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু এতে বিদ্যমান সঙ্কটের, যেমনÑ প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়নি, তেমনি এ সঙ্কট মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কেও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এমনকি গত ২ বছর ধরে করোনার কারণে বেকারত্ব নিরসনের যেমন জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই, তেমনি এ বাজেটেও এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা উল্লেখ করা হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। কিন্তু মন্দার মধ্যে এ রাজস্ব কীভাবে আদায় হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। একই সঙ্গে সঙ্কট মোকাবিলায় মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা, ভর্তুকি দিতে হবে বিভিন্ন সেবা ও পণ্যে। এসব বিষয়েও অর্থমন্ত্রী অনেক কিছুই স্পষ্ট করেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রঙিন চশমায় দেখা অর্থনীতিকে পরিচালনার আদলেই এই বাজেট দেয়া হয়েছে। এতে বাস্তবতার তেমন প্রতিফলন মেলেনি। বাজেটে একদিকে বিভিন্ন খাতে কর হার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে করের আওতা বাড়ানো হয়েছে। আওতা বাড়ানোর ফলে মানুষের কাছ থেকে এসব বাড়তি কর আদায় করতে হবে।

‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ সেøাগান নিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে। নতুন এ বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার কথা বলা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৮৪ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা বেশি। নতুন বাজেটে সরকারের আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হতে যাচ্ছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ ঘাটতি ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের তুলনায় ৪৪ হাজার ৭৯ কোটি টাকা বেশি। কর বাবদ ৩ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা আয় করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে এনবিআরকে আগের বছরের তুলনায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দিচ্ছে সরকার। এনবিআরবহির্ভ‚ত কর থেকে আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া আয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি। বৈদেশিক অনুদান থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদের কেউ কেউ বলছেন, প্রয়োজনের নিরিখে বাজেটের আকার ঠিক আছে। আবার অনেকে বলছেন, বাস্তবযোগ্য নয়। রাজপথের প্রধানবিরোধী দলের নেতারা বলছেন, স্বজনতোষণ, ঋণনির্ভর ও ঘাটতি বাজেট। এটা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। অবশ্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বাজেট ঘোষণায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি বাস্তবভিত্তিক, সঙ্কটকালীন ও সময়োপযোগী।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এতে স্বাক্ষর করেন। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫১তম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে চতুর্থ বাজেট।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে তার চতুর্থ বাজেটটি দিতে হলো- এমন এক সময়ে, যখন করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তার কপালে বেশ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দিন যতই যাচ্ছে, সঙ্কট ততো বাড়ছে; দেখা দিচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ। এজন্যই এ বছরের বাজেটে স্লোগান দেয়া হয়েছে- ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’। বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী এক ফিনিক্স পাখির গল্প দিয়ে শুরু করেন। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন যুদ্ধ উদ্ভূত অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সর্বোপরি ব্যাপক কর্মসৃজন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা প্রাধান্য দিয়েছেন। প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এজন্য বিদ্যমান চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর কৌশল নেয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এতে এক কোটি পরিবার টিসিবির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সহায়তা পাবে। অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী, যা বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। করোনার অভিঘাত মোকাবিলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরেও ৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষি সহায়তা কার্যক্রম, কৃষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হবে। করোনার মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অতিমারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চলতি বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল অংশে কর্মসংস্থানের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে, যেখানে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী অর্থবছরেও ২ দশমকি ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আওতা এবং পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ২০ লাখ ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী থেকে বাড়িয়ে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। দেশে শিল্প ও বাণিজ্য সহায়ক পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরমধ্যে পদ্মা সেতু অন্যতম। যা আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করা হবে। এতে রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অভ‚তপূর্ব উন্নতি সাধিত হবে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৮১ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭২ হাজার ২৯ কোটি টাকা।

বাজেট পরিসংখ্যান :
আগামী অর্থবছরে বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেশি। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেটে পরিচালন আবর্তক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে (অনুদানসহ) পাওয়া যাবে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া হবে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ৪০ হাজার ১ টাকা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে নেয়া হবে ৫ হাজার ১ টাকা। অন্যদিকে এনবিআর’র লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৩০ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেশি।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কর্পোরেট করহার কমানোর প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একক ব্যক্তির কোম্পানির কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসা সহজীকরণের জন ট্রেডিং পন্য সরবরাহে উৎসে কর ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যয় কমাতে কাঁচামাল সরবরাহে উৎসে কর ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্পূরক বাজেট : চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। সেটি কমিয়ে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়নি। ঘাটতি অর্থায়ন ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা জিডিপির ৫ দশমকি ১ শতাংশ। মূল বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছি ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ঘাটতি বেশি হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না আমি। এখন আমাদের বেশি বেশি খরচ করতে হবে। তবে বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এই অবস্থায় যতটা সম্ভব বিদেশি ঋণ কম নিয়ে বিদেশি অনুদান আনার চেষ্টা বেশি করতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গরিব মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার কথা চিন্তা করলে বাজেট ঘাটতি বড় বিষয় নয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।