ঢাকারবিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  1. #সর্বশেষ সংবাদ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উদ্যোক্তা
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. পজিটিভ বাংলাদেশ
  15. প্রবাস

এশিয়া কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

bastobchitro
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩ ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উপমহাদেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপের সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে হেরে আসর থেকে বিদায় নিলো বাংলাদেশ। গতকাল কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা ২১ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ভালোভাবেই টিকে রইল। আর টানা দুই হারে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে পড়লো টাইগাররা। ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান তুলে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ৪৮.১ ওভারে ২৩৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। বোলিংয়ে বাংলাদেশের পেসাররা উজ্জ্বল থাকলেও ব্যাটিংয়ে আলো ছড়াতে পারেননি টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। বিশেষ করে লিটন দাস ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছিলেন অনেকটাই ব্যর্থ। একমাত্র মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ছাড়া আর কেউ জ্বলে উঠতে পারেননি। তিনি মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে একাই লড়াই করে যান। লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। জয়ের জন্য ২৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে এসে আরও একবার ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে ১১তম ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে পঞ্চাশ পার করে বাংলাদেশ। জুটি অবশেষে ভাঙে ৫৫ রানে। ২৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৮ রান করে মিরাজ পুল করতে গিয়ে দাসুন শানাকার শিকার হন। জুটি গড়লেও শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন না নাইম শেখ। ধীরগতিতে এগোচ্ছিলেন তিনি। তবে ধীরগতির এক ইনিংসও বড় করতে পারলেন না। ৪৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৬ বলে ২১ রান করে শানাকার বলে আউট হয়ে ফেরেন নাইম। লঙ্কান অধিনায়কের শর্ট বলে ব্যাট চালিয়ে আকাশে তুলে দেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। উইকেটরক্ষক নেন সহজ ক্যাচ।
সাকিব আল হাসানও ভরসা দিতে পারেননি দলকে। আরও একবার ছোট মালিঙ্গা ‘খ্যাত মাথিসা পাথিরানার শিকার হন টাইগার অধিনায়ক। পাথিরানার গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের মতোই সাকিব ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিসকে। যদিও পাথিরানার আবেদনে শুরুতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে জেতে শ্রীলঙ্কা। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল আলতো করে সাকিবের (৭ বলে ৩) ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। লিটন দাস সেট হয়ে হতাশ করেছেন আরও একবার। ২৪ বলে ১৫ রান করে দুনিথ ওয়েলালাগের বলে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত হন লিটন। ফলে ৮৩ রান তুলতে ৪ ব্যাটার হারায় বাংলাদেশ। দলের এমন বিপর্যয়ে হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। জুটিতে তারা ১১২ বলে ৭২ রান যোগ করেন। ৪৮ বলে ২৯ করে মুশফিক শানাকার বলে ক্যাচ দিলে ভাঙে এই জুটি। তারপরও হৃদয় আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ৪২ বলে যখন ৬২ দরকার ছিল বাংলাদেশের। হৃদয় তখনও আশা হয়ে আছেন। কিন্তু থিকসানাকে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই তার প্যাডে বল লাগলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হয় হৃদয়কে। আউট হওয়ার আগে ৯৭ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ের মারে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন হৃদয়। তিনি ফেরার পরই বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। নাসুম আহমেদ ১৪ বলে ১৫ আর হাসান মাহমুদ ৭ বলে ১০ করে পরাজয়ের ব্যবধানই যা কমিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার থিকসানা, শানাকা ও পাথিরানা যথাক্রমে ৬৯, ২৮ ও ৫৮ রানে পান তিনটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে স্বাগতিক দলকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। তাসকিনের প্রথম তিন-চারটি বল তো চোখেই দেখেননি লঙ্কান ওপেনাররা। এলবিডব্লিউ আউটও হয়েছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। যদিও ডিআরএস নিয়ে বেঁচে যান তিনি। ওই সময় আউট না হয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন লঙ্কান দুই ওপেনার। যে কারণে ৫.৩ ওভার পর্যন্ত ৩৪ রানের জুটি গড়ে ফেলেন তারা। কিন্তু হাসান মাহমুদ বল করতে এসেই ব্রেক থ্রুটা এনে দেন। নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই দিমুথ Playকরুণারতেœকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। বলে দুর্দান্ত সুইং ছিল। যে কারণে ক্রিকইনফো লিখে, এমন বল নিয়ে দুঃস্বপ্নও দেখে থাকেন ব্যাটাররা। পায়ের ওপর বলটি পিচ করে অফস্ট্যাম্প দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিলো। স্কয়ার লেগে খেলার চেষ্টা করেছিলেন করুণারতেœ। কিন্তু বল ব্যাটের কিনারায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। ১৭ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন করুণারতেœ। ৩৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এরপর উইকেটে বেশ ভালোভাবেই থিতু হয়ে যান পাথুম নিশাঙ্কা এবং কুশল মেন্ডিস। তারা যে বর্তমান সময়ে শ্রীলঙ্কার দুই সেরা ব্যাটার তার প্রমাণ দেন দুর্দান্ত ব্যাট করে। যদিও বাংলাদেশের ফিল্ডারদের মিস ফিল্ডিং তাদের ভালো করার পেছনে অনেকটাই অবদান রেখেছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত পাথুম নিশাঙ্কা এবং কুশল মেন্ডিসের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটিকে ভাঙতে সক্ষম হন পেসার শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের ২৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শরিফুলের বলে এলবিডব্লিউ হন পাথুম নিশাঙ্কা। আউট হওয়ার আগে তিনি ৬০ বল খেলে ৫ বাউন্ডারির মারে করেন ৪০ রান। দলীয় ১০৮ রানে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় উইকেট হারালে কুশল মেন্ডিস সাবধানেই ব্যাট করছিলেন। এই সাবধানী ব্যাটিংই তাকে এনে দেয় হাফসেঞ্চুরি। তবে হাফসেঞ্চুরির পর আর এগুতে পানেনি কুশল। তাকে তুলে নেন শরিফুল। ৭৩ বলে ৬ চার আর ১ ছক্কায় ৫০ রান করার পর কুশল মেন্ডিসকে তাসকিনের ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল। ২৫.৫ ওভারে দলীয় ১১৭ রানে কুশলকে হারানোর পর সাদিরা সামারাবিক্রমাকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি চারিথ আসালঙ্কা। ৩১.৫ ওভারে তাসকিনকে তুলে মারতে গিয়ে অধিনায়ক সাকিবের তালুবন্দী হন তিনি। মিডঅন থেকে দৌঁড়ে এসে আসালঙ্কার ক্যাচ লুফে নেন সাকিব। দলীয় ১৪৪ রানে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৩ বলে ১ চারের মারে ১০ রান। ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকেও সেট হতে দেননি পেসার হাসান মাহমুদ। ১৬ বলে ৬ রান করে টাইগার পেসারের দ্বিতীয় শিকার হন লঙ্কান অলরাউন্ডার। ১৬৪ রানে ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে সাদিরা সামারাবিক্রমা আর অধিনায়ক দাসুন শানাকা ৫৭ বলে ৬০ রান যোগ করেন দলীয় সংগ্রহে। ৪৭তম ওভারে শানাকাকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ফেরার আগে ৩২ বলে এক বাউন্ডারির মারে ২৪ রান করেন শানাকা। এরপর ৪৮.৩ ওভারে দলীয় ২৪৩ রানে আউট হন দুনিথ ওয়েলালাগে। হাসান মাহমুদের বলে রান আউট হয়ে ফেরার আগে তিনি করেন তিন বলে ৩ রান। ৪৯.১ ওভারে তাসকিন মাত্র ২ রান করা মহেশ থিকশানাকে ফেরালে ২৪৬ রানে অষ্টম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। আর দলীয় ২৫৭ রানে সবচেয়ে মূল্যবান উইকেটটি হারায় লঙ্কানরা। শেষ ওভারের শেষ বলে সাদিরা সামারাবিক্রমা তাসকিনের শিকারে পরিণত হলে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। আউট হওয়ার আগে ৭২ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ের মারে ৯৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সাদিরা।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৬২ রানে ও হাসান মাহমুদ ৫৭ রানে পান ৩টি করে উইকেট। ৪৮ রানে ২ উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন শ্রীলঙ্কার সাদিরা সামারাবিক্রমা।

সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।